এক গ্লাস পানি ও এক জীবনের শিক্ষা


একদিন প্রচণ্ড গরম দুপুরে এক দরিদ্র মানুষ রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। তৃষ্ণায় তাঁর গলা শুকিয়ে গেছে। পথে তিনি এক ধনী লোকের বাড়ির সামনে থামলেন এবং ধীরে বললেন,

“ভাই, একটু পানি দেবেন?”


বাড়ির মালিক দরজায় এসে তাঁকে একবার দেখলেন। তাঁর পোশাক ছেঁড়া, মুখে ক্লান্তি। বিরক্তভাবে বললেন,

“যাও অন্য কোথাও যাও, আমার সময় নেই।”


দরিদ্র মানুষটি কিছু না বলেই মাথা নিচু করে চলে গেলেন। পথে এক বুড়ি তাকে দেখে বললেন,

“বাবা, ক্লান্ত মনে হচ্ছে, এসো, বসো, পানি খাও।”

বৃদ্ধা তাঁকে ঠান্ডা পানি ও এক টুকরো রুটি দিলেন। পানি খেয়ে দরিদ্র মানুষটি বললেন,

“আল্লাহ যেন আপনাকে অসীম রহমত দান করেন।”


কয়েক বছর পর—

সেই দরিদ্র মানুষটি আল্লাহর রহমতে ব্যবসায় সফল হলেন, শহরের এক সম্মানিত ব্যক্তি হয়ে উঠলেন। একদিন তিনি দান করার উদ্দেশ্যে কিছু গরিবের খোঁজে বের হলেন। হঠাৎ দেখলেন, এক বৃদ্ধা ভাঙা ঘরে বসে আছে— ঠিক সেই মহিলা যিনি তাকে পানি দিয়েছিলেন।


তিনি তাঁকে সালাম দিয়ে বললেন,

“আপনি কি আমাকে মনে রাখেন? একদিন আমি আপনার দরজায় এসেছিলাম পানি চাইতে।”

বৃদ্ধা হাসলেন, “সন্তান, আমি বহু মানুষকে পানি দেই, মনে নেই।”

লোকটি চোখে পানি নিয়ে বললেন,

“আজ আমি আপনার সেই এক গ্লাস পানির ঋণ শোধ করতে এসেছি।”

তিনি বৃদ্ধার জন্য একটি পাকা ঘর তৈরি করে দিলেন, মাসিক খরচের ব্যবস্থা করলেন।


পরদিন সেই শহরের ধনী ব্যক্তি, যিনি একদিন পানি দিতে অস্বীকার করেছিলেন, খবর পেলেন যে তাঁর ব্যবসা আগুনে পুড়ে গেছে, সব শেষ। তিনি দৌড়ে মসজিদে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন,

“হে আল্লাহ, আমি বুঝেছি — কারো তৃষ্ণা মেটানো মানে নিজের ভাগ্যে বরকত আনা।”

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url